কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত ৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগপত্রে ইউপি সদস্যরা দাবি করেন, চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন সরকারি বিধি এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন না করা এবং বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, কাবিটা ইউনিয়ন উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের আওতায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তোতা মিয়ার বাড়ি থেকে কামাল মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাইয়ের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে একই প্রকল্পে আরও ৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সদস্যরা।
এ ছাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা সিসি ঢালাইয়ের জন্য বরাদ্দ করা প্রায় ৬ লাখ ৮ হাজার ৪০০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের অবহিত না করে ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা সিসি ঢালাই, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সৌরবিদ্যুৎচালিত সড়কবাতি স্থাপন এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণের কাজেও অনিয়ম হয়েছে। পাশাপাশি ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র বাইরে ইউনিয়নের নাগরিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
ইউপি সদস্যদের আরও দাবি, ভিজিডি কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে ইউনিয়নের জন্য ২৫৭টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সদস্যদের ২৩৭টি কার্ডের কথা জানানো হলেও পরবর্তী সময়ে কার্ড বিতরণে অনিয়ম করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওর কাছে আবেদন করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মানিক উদ্দিন বলেন, ‘মেম্বারদের সঙ্গে মীমাংসা হয়ে গেছে।’
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, অভিযোগের কপি এখনো তাঁর হাতে পৌঁছেনি। তিনি সদস্যদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেছেন। বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান তিনি।