বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় ট্রলারে থাকা ১৪ জেলেকেই জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট সংলগ্ন সাগর এলাকায় ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামের ট্রলারটি ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটির মালিক তালতলী উপজেলার নিদ্রা এলাকার জাফর মিয়া। ট্রলারে থাকা ১৪ জেলের মধ্যে ১৩ জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা এবং একজন সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার ১৪ জন জেলেকে নিয়ে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যায়। পরে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে তারা উপকূলে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফকিরহাট এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে সাগরে ডুবে যায়।
ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের জেলে ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। পরে সেলিম মাঝির একটি ট্রলার ঘটনাস্থলে গিয়ে সাগরে ভাসমান ১৪ জেলেকে উদ্ধার করে।
উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি রাজু মিয়া বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। রাত ৮টার দিকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ১৪ জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে সাগর উত্তাল থাকায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী ট্রলারটি ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পৌঁছায়। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া জেলেরা নিরাপদে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবর ফরাজী জানান, ট্রলারডুবির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাটে থাকা কয়েকটি ট্রলারকে উদ্ধার অভিযানে পাঠানো হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীশ সরকার ট্রলারডুবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। উদ্ধার হওয়া সব জেলে নিরাপদে রয়েছেন।