পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে আখিনুরকে প্রধান আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আখিনুর চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত আখিনুরও একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে সে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড়ের একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের কাছে আখিনুরের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি জানায় সে।
এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা সময় লেগেছে।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয় এবং প্রধান আসামি আখিনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলছে।
মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, তাদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্প্রতিবন্ধী। এ সুযোগে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে তার দাবি। মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
আখিনুরের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার চাচা। তার দাবি, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং সে হিসেবে তার বয়স ১৪ বছরের কিছু বেশি। তবে মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। ভুক্তভোগী কিশোরীও একই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।