গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্বামীকে তালাক দেওয়ায় সাবেক স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গত ৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিজামকান্দি গ্রামের আহাদ আলী মোল্যার মেয়ে ইয়াসমিন খানমের সঙ্গে একই এলাকার লাভলু মোল্যার ছেলে লাল্টু মোল্যার প্রায় আট বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ইয়াসমিনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে স্বামী লাল্টুর বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় দেড় মাস আগে ইয়াসমিন তাঁর স্বামীকে তালাক দেন। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তালাকের পর থেকেই লাল্টু ইয়াসমিন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ পরিবারের। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে লাল্টুকে ইয়াসমিনের বাবার বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাড়ির উঠানে থাকা খড়ির পালায় আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও খড়ির পালাটি পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর প্রায় ১৫ দিন আগেও লাল্টু তাঁদের বসতঘরে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ওই সময় রাস্তায় লোকজন উপস্থিত থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
ইয়াসমিনের বড় ভাই ও সৌদিপ্রবাসী তারিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের পর থেকেই তাঁর বোনকে লাল্টু শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দেড় মাস আগে ইয়াসমিন তাঁকে তালাক দেন। এরপর থেকেই লাল্টু তাঁদের পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাল্টু মোল্যা। মুঠোফোনে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং অহেতুক তাঁকে দোষারোপ করা হচ্ছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।