বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমাজে চরম বিভাজন তৈরির অভিযোগ তুলেছেন তার সাবেক প্রেমিকা অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার। সময়মতো এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘মাস্ক’-এ এসব কথা বলেন সেন্ট ক্লেয়ার। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর সময় তিনি দাবি করেন, এক টেক্সট বার্তায় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই তার সন্তানদের একটি ‘বাহিনী’ প্রয়োজন।
২০২৪ সালে মাস্ক ও সেন্ট ক্লেয়ারের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি, গোপনীয়তা চুক্তিতে (এনডিএ) স্বাক্ষরের বিনিময়ে মাস্ক তাকে এককালীন ৪ কোটি ডলার এবং প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে ওই প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেন ক্লেয়ার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, মাস্ক গৃহযুদ্ধ নিয়ে কেবল উদ্বিগ্ন ছিলেন, নাকি তিনি নিজেই সেটিকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এক্স প্ল্যাটফর্মে মাস্কের কর্মকাণ্ড উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ক্লেয়ারের দাবি, মাস্কের পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তব জগতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিভাজন সৃষ্টির এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগ না নেওয়া হলে তা বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রায় তিন বছর ধরে নির্মিত চার ঘণ্টার প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি বলেন, সভ্যতা ধ্বংস নিয়ে মাস্কের উদ্বেগ ও মানসিক আবেশের পেছনে তার দক্ষিণ আফ্রিকায় কাটানো শৈশবের প্রভাব থাকতে পারে। গিবনির ভাষ্য, মাস্ক কঠিন ও মানসিকভাবে যন্ত্রণাদায়ক শৈশব পার করেছেন এবং সেই অভিজ্ঞতার প্রভাব তার বর্তমান কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হতে পারে।