ইন্দোনেশিয়ার একটি সৈকতে ১৩ ফুট দীর্ঘ বিরল একটি ‘ওরফিশ’ ভেসে আসার ছয় দিন পর দেশটির ছয়টি আগ্নেয়গিরিতে প্রায় একই সময়ে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মধ্যে মাছটির সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন কোনো সম্পর্কের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সংবাদমাধ্যম ডেটিকবালিকে সেকারোহ গ্রামের তেলোন হ্যামলেটের প্রধান সাহলান জানান, কমোডো দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ‘পিঙ্ক বিচ’-এ মাছটি ভেসে আসে। রাতে সেখানে ক্যাম্পিং করা এক পর্যটক সকালে প্রথম মাছটি দেখতে পান। পরে সৈকতে থাকা কয়েকজন শিশু ও এক বয়স্ক ব্যক্তি মাছটি সরিয়ে নেন।
সাহলান বলেন, বিরল এই গভীর সমুদ্রের মাছ সৈকতে ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে সে সময় এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল।
এর ছয় দিন পর, ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার সেন্টার ফর ভলকানোলজি অ্যান্ড জিওলোজিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন (পিভিএমবিজি) জানায়, দেশটির অন্তত ছয়টি আগ্নেয়গিরিতে প্রায় একই সময়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সুমাত্রার মাউন্ট সিনাবুং ও আনাক ক্রাকাতাউয়ের পাশাপাশি উত্তর মালুকুর মাউন্ট ইবু, পূর্ব নুসা তেনগারার মাউন্ট লেউওতোবি পেরেমপুয়ান ও ইলি লেউওতোলোক এবং পূর্ব জাভার মাউন্ট সেমেরু রয়েছে। এসব অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে আনাক ক্রাকাতাউ ও সিনাবুংয়ের ছাই প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠেছিল বলে জানানো হয়।
তবে পিভিএমবিজির প্রধান সিতি সুমিলা রিতা সুসিলাওয়াতি জানিয়েছেন, ওই ছয়টি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মধ্যে কোনো পারস্পরিক সংযোগ নেই।
ওরফিশ সমুদ্রের গভীরে বসবাসকারী একটি বিরল প্রাণী। সাধারণত এদের সমুদ্রের উপরিভাগে খুব কমই দেখা যায়। জাপানি লোকগাথায় এই মাছকে ‘রিউগু নো সুকাই’ বলা হয়, যার অর্থ ‘সমুদ্র দেবতার প্রাসাদের বার্তাবাহক’। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে ওরফিশ পানির ওপরে উঠে আসে। এ কারণে অনেক জায়গায় মাছটিকে ‘ডুমসডে ফিশ’ বা ‘কেয়ামতের মাছ’ নামেও ডাকা হয়।
তবে ওরফিশের উপস্থিতির সঙ্গে ভূমিকম্প, সুনামি বা বন্যার মতো দুর্যোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। গবেষকদের মতে, গভীর সমুদ্রের পরিবেশগত পরিবর্তন, স্রোত বা প্রাণীটির শারীরিক অবস্থার মতো বিভিন্ন কারণে ওরফিশ কখনো কখনো পানির কাছাকাছি বা সৈকতে ভেসে আসতে পারে।