ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় মিষ্টিতে পোকা পাওয়ার অভিযোগ তুলে দোকানির কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে নগদ টাকা ও আইফোন দাবি এবং তা না দিলে ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত দম্পতি হলেন সহেলি দে সূত্রধর ও তার স্বামী সুব্রত দে। এ ঘটনায় হাবড়ার প্রফুল্লনগরে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ সুইটসের মালিক নয়ন ঘোষ হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সহেলি ও সুব্রত শ্রীকৃষ্ণ সুইটসে গিয়ে মিষ্টি কেনেন। মিষ্টি খাওয়ার পর তারা তাতে পোকা থাকার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে দোকানের মালিকের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে ওই দিন বিকেলে দোকান মালিকের হোয়াটসঅ্যাপে পোকা থাকার অভিযোগ করা মিষ্টির ছবি ও ভিডিও পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে একাধিকবার ফোন করা হয় বলেও দাবি করেছেন নয়ন ঘোষ।
দোকান মালিকের অভিযোগ, তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত দম্পতির বাড়িতে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার বিনিময়ে একটি আইফোন ও নগদ অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তার। দাবি পূরণ না করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নয়ন ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, মিষ্টির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পোকা রাখা হয়েছিল এবং পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। তার দাবি, আধুনিক পদ্ধতিতে খাদ্যসুরক্ষা বিধি মেনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তাদের কারখানায় মিষ্টি তৈরি করা হয়। ফলে মিষ্টিতে পোকা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
দোকান মালিকের দাবি, তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
ঘটনার পর সহেলি দে সূত্রধর ও সুব্রত দের বিরুদ্ধে হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নয়ন ঘোষ। পুলিশ অভিযুক্ত দম্পতিকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মানহানির মামলা করা হয়েছে। মিষ্টিতে পোকা থাকার অভিযোগ এবং দোকান মালিকের করা অর্থ দাবির অভিযোগের সত্যতাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।