বাগেরহাটের চিতলমারীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় প্রসূতির জরায়ু ও মূত্রথলি কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার দুপুরে চিতলমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী প্রসূতি লাভলী ঘরামী, তার স্বামী-সন্তানসহ কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, লাভলী ঘরামীকে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য হাবিবা ক্লিনিক অ্যান্ড বারিশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এনে অস্ত্রোপচার করার কথা থাকলেও সেখানে প্রত্যাশিত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না বলে দাবি করেন লাভলী। তার অভিযোগ, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর মোবাইলের আলো ব্যবহার করে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় তার জরায়ু ও মূত্রথলিতে গুরুতর ক্ষতি হয়।
লাভলী ঘরামী বলেন, ঘটনার প্রায় ৪৫ দিন পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। শারীরিক জটিলতার চিকিৎসায় তার আরও প্রায় দেড় লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাবিবা ক্লিনিক অ্যান্ড বারিশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক সাব্বির আহম্মেদ রুপম। তিনি দাবি করেন, স্যাকমো অমিত মন্ডল অস্ত্রোপচার করেননি। তার দাবি, অস্ত্রোপচারটি করেছেন ডা. নাসির উদ্দিন। রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপক্ষ ক্লিনিক মালিকদের ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ডা. নাসির উদ্দিন দাবি করেন, অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং রোগী সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছিলেন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শ না মানার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন এই চিকিৎসক। তবে রোগীর চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় তিনি ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বহন করবেন বলে জানান তিনি।
মানববন্ধনের আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ক্লিনিক পরিচালকের ভাই গণমাধ্যমকর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে পরিদর্শন করা হয়েছিল। বর্তমানে বিষয়টি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।