বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বাগেরহাটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত রোববার সকালে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে বয়লার অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়াসহ অভ্যন্তরীণ কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে ইউনিট বন্ধ থাকায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা থাকলেও বুধবার পর্যন্ত তারা রামপালে পৌঁছাননি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ধীরে ধীরে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। দেশীয় প্রকৌশলীরা প্রাথমিক কাজ শুরু করলেও বয়লারের জটিল কারিগরি কাজ সম্পন্ন করতে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন হচ্ছে।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা পৌঁছানোর পর মেরামতের কাজ আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। তবে ইউনিটটির উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউনিটটি বন্ধ থাকায় বাগেরহাট ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, দ্রুত কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করে ইউনিটটি উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তাই দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট কবে নাগাদ পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মেরামতের অগ্রগতি ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের কাজ শুরুর পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।