Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, একনেকে অনুমোদনের সম্ভাবনা - Chief TV

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, একনেকে অনুমোদনের সম্ভাবনা - Chief TV

2026-09-13  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  41 views
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, একনেকে অনুমোদনের সম্ভাবনা - Chief TV

বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চলতি সপ্তাহেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদন পেতে পারে। প্রায় ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে প্রকল্পটি।

রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।

এর আগে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভাও সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাজ শুরু হবে।

প্রকল্পের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে না। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আগে অধিগ্রহণ করা অব্যবহৃত জমিই এখানে ব্যবহার করা হবে। পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্প এলাকায় ইতোমধ্যে জমি ভরাট, সীমানা সুরক্ষা ও প্রাথমিক সাইট উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা সম্পূর্ণ নতুন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানির সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করায় প্রকল্পটির সামগ্রিক নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ফেনীর সোনাগাজীর একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৮ টাকা ৮৭ পয়সা ট্যারিফের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ কম।

বিআইএফপিসিএলের সাবস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, রামপালের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায়ও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও পরিবেশবিদরা মনে করছেন, প্রকল্পটি অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের ওপর জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য পরিবেশগত চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন, টেকসই ও অভিঘাতসহনশীল জ্বালানি কাঠামো গড়ে তুলতে রামপালের এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।


Share: