শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় একাধিক সেলাই এবং পিঠ ও দুই পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। শিশুটির অভিযোগ, সামান্য ভুল হলেই তাকে মারধর করা হতো। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার পাশাপাশি ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না এবং দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে টয়লেটে আটকে রাখা হতো।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট দুপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী মোখছেদের নাতনির সঙ্গে বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে ঘর মোছার কথা বলে শিশুটিকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন মোখছেদ। পরে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শিশুটিকে গাছের সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের অনেকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় পাঠদান শেষে ওই ছাত্রীকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর তার সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়। পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সাত মাস আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মো. রায়হান। দীর্ঘ সময় পর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ভিক্ষা করার সময় তার সন্ধান পেয়েছেন স্বজনরা। তবে ফিরে আসার পর দেখা গেছে, শিশুটি গুরুতরভাবে পঙ্গু অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই শিশু মাদরাসা থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর সেখানে আর ফিরতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তারা পরিবারের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত আখিনুরও একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে সে ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটি তাদের মাদক সেবনের ঘটনা দেখে ফেলেছিল এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে নির্যাতন করা হয় বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ ও শিশুটির স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে শিশুটি তার নানির বাড়িতে একা খেলছিল। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে একা পেয়ে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
শিশুটির পরিবারের দাবি, ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী রয়েছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের কেউ থানায় এসে অভিযোগ করেননি।