বাগেরহাটের মোংলায় একটি মুদি দোকানের গোডাউন থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মজুদ করা ৭৮ ব্যারেল বা ১৫ হাজার ৬০০ লিটার অপরিশোধিত সয়াবিন তেল জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শনিবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের প্রধান বাজারের মেসার্স শোভা স্টোরের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে এসব তেল জব্দ করা হয়। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চোরাচালান চক্র অবৈধভাবে ভোজ্যতেল সংগ্রহ করে মোংলা ও আশপাশের বাজারে সরবরাহ করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে শোভা স্টোরের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সবুর তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোডাউনে অবৈধভাবে সয়াবিন তেল মজুদ করে আসছিলেন। একই সঙ্গে তেলের সঙ্গে ভেজাল মিশিয়ে তা বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
অভিযানের সময় সবুর তালুকদার ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। চোরাচালানের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন আক্তার সুমী জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। জব্দ করা ৭৮ ব্যারেল তেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, চোরাচালান ও অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পৌর শহরের বাজারগুলোতে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও একই ব্যবসায়ীর গোডাউন থেকে অবৈধ ভোজ্যতেল জব্দ হয়েছিল। এরপরও কীভাবে আবার বিপুল পরিমাণ তেল মজুদ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।