সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, চোরাচালান প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হবিগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়েছে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন। এসব অভিযানে ট্রাকে বালির নিচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও প্রসাধনী, ভারতীয় মদ এবং গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্য ও মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহলদল মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের সুরমা চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরের ওই এলাকায় রাস্তার পাশে একটি সন্দেহজনক ড্রাম ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে ট্রাকে বহন করা বালির নিচে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ভারতীয় শাড়ি ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে চোরাচালানকারীরা বালির আড়ালে এসব পণ্য পরিবহন করছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি। জব্দ করা শাড়ি ও প্রসাধনীর আনুমানিক সিজার মূল্য ১ কোটি ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা।
এদিকে, হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধীন বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল পৃথক আরও কয়েকটি চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।
বিজিবি জানায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিমাইলত এলাকায় সিন্দুরখান সীমান্ত ফাঁড়ির একটি টহলদল অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৪ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করে।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গারোটিলা এলাকায় সাতছড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল অভিযান চালিয়ে আরও ৯৬ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে।
একই দিন রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে মাধবপুর উপজেলার ২০ নম্বর চা-বাগান এলাকায় তেলিয়াপাড়া সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করে।
বিজিবির তথ্যমতে, পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ১৪০ বোতল ভারতীয় মদ ও ১০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে পৃথক এসব অভিযানে জব্দ করা ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, মদ ও গাঁজার মোট সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ ৭ হাজার ৪০০ টাকা।
জব্দ করা মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য চোরাচালানি মালামাল বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।