কিশোরগঞ্জে ২৬ বছর আগে দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তি হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
শুনানিতে নুর মোহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ আদালতকে জানান, তার মক্কেলের বয়স ১০৪ বছর। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন এবং স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপিলের শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
তবে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতি হয়। এ সময় দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুটের ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন।
এ ঘটনায় দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত রায় দেন। ওই রায়ে আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হলেও নুর মোহাম্মদের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তবে নুর মোহাম্মদ এতদিন সেই সাজা ভোগ করেননি। মামলার বিচার চলাকালে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ২৬ বছর পর মঙ্গলবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।