Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / কিশোরগঞ্জ / কিশোরগঞ্জে গর্ভে থাকতেই চার শিশু বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ - Chief TV

কিশোরগঞ্জে গর্ভে থাকতেই চার শিশু বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ - Chief TV

2026-09-12  ডেস্ক রিপোর্ট  39 views
কিশোরগঞ্জে গর্ভে থাকতেই চার শিশু বিক্রির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ - Chief TV

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গত তিন বছরে চার শিশুকে গর্ভে থাকা অবস্থায় ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ গত ২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলা বেগম নামে এক নারী ভিক্ষুকের মাধ্যমে শিশু কেনাবেচার ঘটনাগুলো ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় গত ৬ সেপ্টেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিক্রি হয়ে যাওয়া এক শিশুর বাবা জাকির মিয়া। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কয়েকটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের জাকির মিয়া ও ফারজানা আক্তার দম্পতির আগে দুই ছেলে রয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাঁদের আরও একটি ছেলেসন্তান জন্ম নেয়। অভিযোগ রয়েছে, জন্মের পর শিশুটিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা জাকির মিয়ার দাবি, তাঁর অজান্তে স্ত্রী ফারজানা, শাশুড়ি ও দুই দালালের মাধ্যমে এই লেনদেন করেছেন। তবে ফারজানা আক্তার দাবি করেন, তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং সংসারের সংকটের জন্য তিনিই দায়ী। সন্তান দেওয়ার সময় জাকিরের সম্মতি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে অন্যদের পরামর্শে জাকির থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানান ফারজানা।

জাকির মিয়া বলেন, যে পরিবারের কাছে সন্তানটি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন, সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁর আশঙ্কা, শিশুটিকে আরও বেশি টাকায় অন্য কোথাও বিক্রি করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, জাকির-ফারজানা দম্পতির ঘটনা ছাড়াও একই গ্রামের আরও তিনটি পরিবার গত তিন বছরে নিজেদের সন্তান বিক্রি করেছে। এসব ঘটনায় মঙ্গলা বেগম নামের ওই নারী জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকির-ফারজানার নবজাতক ৬০ হাজার টাকা, সাদ্দাম হোসেনের এক সন্তান দেড় লাখ টাকা এবং জাকির হোসেন ও আসাদ মিয়ার দুটি সন্তান ২ লাখ টাকা করে বিক্রি করা হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। তবে এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ মিয়ার দাবি, ফারজানা সন্তান জন্মের আগেই বিক্রির কথা এলাকায় জানিয়েছিলেন এবং তখনই কিছু টাকা নিয়েছিলেন। পরে শিশুটি জন্মের পর সত্যিই তাকে বিক্রি করে দেওয়ার খবর পান বলে জানান তিনি।

জাকির হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ রাসেল বলেন, তাঁর ভাই আগে বিড়ি-সিগারেটও খেতেন না। প্রবাস থেকে ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভাই মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। শিশু বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু বিক্রির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।


Share: