ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ ৪০ ঘণ্টা পর হস্তান্তর করা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে মরদেহটি বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত আসাদুল হক (৩৮) পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে। এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার চান্দেরহাট সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর প্রধান পিলারের কাছে বিএসএফের গুলিতে আসাদুলসহ তিন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানায়, ভারতের উত্তর দিনাজপুরের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় আহত অপর দুই বাংলাদেশি উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের মোস্তাকিম ও শ্রী উদাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। পরে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাদের ১৪ দিনের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কালিয়াগঞ্জ থানা পুলিশ আসাদুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে তা বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে রোববার দুপুরে শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, ঘটনার পরপরই বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার রাতে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে মরদেহটি নিহতের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে।