বগুড়ার শেরপুরে আদিবাসী নেতা ও বগুড়া জেলা আদিবাসী ফোরামের সভাপতি বাসুদেব রায় বাগদীর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল, সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, গরু ও অটোরিকশা বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় আদিবাসী নেতারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সমিতির নাম ব্যবহার করে এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর নকল করে বিভিন্ন সময় অনুদান উত্তোলন করেছেন বাসুদেব রায় বাগদী। অভিযোগকারীদের দাবি, সদস্যদের অজান্তেই এসব অর্থ তিনি নিজে ভোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
শেরপুর উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র বর্মন ও সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র মাহাতো অভিযোগ করেন, তাদের সমিতির নামে সরকারি বরাদ্দে দেওয়া একটি অটোরিকশা বিক্রি করে সেই অর্থ বাসুদেব রায় আত্মসাৎ করেছেন।
এ ছাড়া আদিবাসী সন্তানদের নামে বিভিন্ন সময় বরাদ্দ এলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে নিজের পছন্দমতো বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তারা।
শেরপুর উপজেলা আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি নরেশ চন্দ্র মাহাতো ও সহসাধারণ সম্পাদক সুরেশ চন্দ্র মাহাতো বলেন, তাদের সমিতির নামে একটি গরুর খামার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো গরু নেই। অভিযোগকারীদের দাবি, খামারের সব গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাসুদেব রায়ের বাড়িতে ‘আদিবাসী একতা সঞ্চয় সমিতি’ নামে একটি সমিতি গঠন করা হয়েছে। সেখানে তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এই সমিতির নামে বিভিন্ন সময় যে অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে, তা তিনি একাই ভোগ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আদিবাসী নেতারা।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সরেজমিনে গিয়ে ওই সমিতির কোনো কার্যকর কার্যালয় বা আসবাবপত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। শুধু একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আদিবাসী নেতাদের আরও অভিযোগ, সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে নির্বাচনী খরচের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছ থেকে আদিবাসীদের নাম ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও সেই অর্থ কোনো আদিবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে শেরপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মিল্টন রহমান বলেন, বাসুদেব রায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের কথা তিনি শুনেছেন। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে সমিতির কোনো কার্যালয় না থাকলে সমিতিটি বাতিল করা হবে।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বাসুদেব রায় বাগদীর বক্তব্য জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।