ঢাকার কাফরুল থানার তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে দুটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে কলিমউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে কলিমউল্লাহর এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার নাম ও ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমনও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি দেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মহসিন রেজা ও মহিমা বাঁধন এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন করেন।
আদালতে নিজের বক্তব্যে কলিমউল্লাহ বলেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই। উপাচার্য থাকাকালীন তিনি ক্যাম্পাসে কোনো রাজনীতি করেননি বলেও দাবি করেন।
এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের ৭ আগস্ট মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে কলিমউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিনই তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ১৪ জুন উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান তিনি। এরপর এক লাখ টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে জামিননামা দাখিলের অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত।
এর মধ্যে গত ৩০ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার জুলাইযোদ্ধা মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় গত ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান কলিমউল্লাহ। গত ৭ সেপ্টেম্বর আদালতে তার জামিননামা দাখিলের পর একই দিন কাফরুল থানার তরিকুল ইসলাম রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম রুবেল ঢাকার মিরপুর-১৫ নম্বর সেকশনে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ মার্চ কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করা হয়।