ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দিল্লিতে পৌঁছানোর আগেই ভারতের রাজধানীর রাস্তায় দেখা যায় ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য। শি জিনপিংয়ের সরকারি গাড়িবহরের কয়েকটি গাড়ি কালো কাপড়ে সম্পূর্ণ ঢেকে পরিবহন করতে দেখা যায়। পরে এসব গাড়ির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় নানা আলোচনা।
মোড়ানো গাড়িগুলো কী ধরনের এবং কেন সেগুলো এভাবে আড়াল করে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। তবে জানা গেছে, বিষয়টির সঙ্গে মূলত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও বিশেষায়িত গাড়ি পরিবহনের বিষয়টি জড়িত।
শি জিনপিংয়ের ব্যবহৃত বিশেষায়িত রাষ্ট্রীয় গাড়ি ‘হংছি এন৭০১’ তার ভারত সফরের আগেই দেশটিতে পাঠানো হয়। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বিদেশ সফরে গেলে তার নিরাপত্তাবেষ্টিত সরকারি গাড়ি আগে থেকেই আয়োজক দেশে পাঠানো অস্বাভাবিক নয়।
রাষ্ট্রপ্রধানের গাড়ি পরিবহনের সময় সাধারণত কার্গো বিমান থেকে নামানোর পর কিংবা বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার সময় বিশেষ পরিবহনযান ব্যবহার করা হয়। এ সময় কাপড় বা ত্রিপল দিয়ে গাড়ি ঢেকে রাখা হলে ধুলাবালি, বৃষ্টি, অতিরিক্ত রোদসহ পরিবহনের সময় সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে গাড়ি সুরক্ষিত থাকে।
এর পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষায়িত রাষ্ট্রীয় গাড়ি প্রকাশ্যে পরিবহনের সময় এর ছবি তোলা কিংবা গাড়ির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত করতেও আবরণ ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে দিল্লিতে শি জিনপিংয়ের গাড়িগুলো ঢেকে রাখার ঘটনাকে কোনো আকস্মিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া না ধরে বিশেষায়িত গাড়ি পরিবহনের স্বাভাবিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত প্রধান গাড়ি হিসেবে পরিচিত ‘হংছি এন৭০১’। চীনের বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হংছি বিশেষভাবে এই লিমুজিন তৈরি করেছে। ‘হংছি’ শব্দের অর্থ ‘লাল পতাকা’।
এটি সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে থাকা কোনো বিলাসবহুল গাড়ি নয়। চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যবহারের কথা মাথায় রেখে বিশেষ উদ্দেশ্যে গাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। গাড়িটির কারিগরি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ্যে না থাকায় এটি নিয়ে রহস্যও রয়েছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এন৭০১-এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে পাঁচ মিটার বা ১৮ ফুটের কাছাকাছি। বড় আকৃতির এই লিমুজিনে হংছির পরিচিত বড় গ্রিল এবং ‘লাল পতাকা’ প্রতীক দেখা যায়।
গাড়িটি ভারী বর্মসজ্জিত বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে বুলেটপ্রুফ কাচ, শক্তিশালী বডি কাঠামো এবং বিশেষ সুরক্ষিত চাকা ও টায়ার ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিছু প্রতিবেদনে বিস্ফোরণ কিংবা রাসায়নিক হামলা মোকাবিলার সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সবগুলো হংছি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
ইঞ্জিন নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। কোথাও বলা হয়েছে, গাড়িটিতে ছয় লিটারের ভি-১২ ইঞ্জিন রয়েছে, যার ক্ষমতা প্রায় ৪০৮ অশ্বশক্তি। তবে গাড়িটির পূর্ণাঙ্গ কারিগরি বিবরণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এন৭০১-এর বৈশিষ্ট্য নিয়ে এই গোপনীয়তাই গাড়িটিকে সাধারণ গাড়িপ্রেমী থেকে শুরু করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় করে তুলেছে।