চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। দাবিতে বলা হচ্ছে, নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি হঠাৎ জ্ঞান হারান এবং পরে স্ট্রোক হলে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে বিমানে করে বেইজিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইন্ডিয়া টুডের অনুসন্ধান অনুযায়ী, চীন বা ভারত—কোনো দেশের সরকারি সূত্রই শির জ্ঞান হারানো, স্ট্রোক, অস্ত্রোপচার বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবিগুলো ছড়ানোর অন্যতম উৎস চীনা গণতন্ত্রপন্থী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে। তার পোস্টে পরে একটি কমিউনিটি নোট যুক্ত করা হয়, যেখানে দাবিগুলো তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শি জিনপিং ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন। সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হয়। এ সফর ছিল প্রায় সাত বছর পর শির প্রথম ভারত সফর।
সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিং উপস্থিত ছিলেন না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনা শুরু হয়। তবে তার নৈশভোজে না যাওয়ার কারণ ভারত বা চীন কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি।
এর আগে সম্মেলনের একটি ভিডিও নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মোদি বক্তব্য দেওয়ার সময় চীনা প্রতিনিধিদলের দিকে তাকিয়ে শির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। শি জবাব দেওয়ার পর মোদি বক্তব্য চালিয়ে যান। শির ওই সময়কার আচরণ এবং পরে নৈশভোজে অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা বাড়ে। তবে ভিডিওটি তার অসুস্থতার প্রমাণ নয় বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
ওয়ানজুন শিয়ে দাবি করেছেন, সম্মেলনের সময় শি জ্ঞান হারান এবং তার সঙ্গে থাকা চিকিৎসকেরা জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে বিশেষ বিমানে করে তাকে বেইজিংয়ে নেওয়া হয় এবং সামরিক হেলিকপ্টারে করে ৩০১ হাসপাতালে নেওয়ার পর গুরুতর স্ট্রোক শনাক্ত ও অস্ত্রোপচার করা হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এসব দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শি জিনপিং ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ব্রিকস সম্মেলন শেষে বেইজিংয়ে ফেরেন। তার সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একই বিমানে দেশে ফেরেন। সরকারি প্রতিবেদনে শির কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
চীনা সরকারি সূত্রে আরও বলা হয়েছে, সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দেন এবং ব্রিকস দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।
ওয়ানজুন শিয়ে চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান। দলটি চীনে নিষিদ্ধ এবং মূলত দেশের বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে। শির অসুস্থতার দাবিটি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট থেকেই ছড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বাধীন নির্ভরযোগ্য সূত্র তার দাবিকে সমর্থন করেনি।
সুতরাং, শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে জ্ঞান হারিয়ে স্ট্রোক করেছেন, অস্ত্রোপচার হয়েছে কিংবা ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব দাবিকে এই মুহূর্তে অযাচাইকৃত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি নিশ্চিতকরণ ছাড়া এগুলোকে সত্য হিসেবে প্রচার করার সুযোগ নেই।