আসন্ন ইহুদি ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, আসন্ন কয়েকটি ধর্মীয় দিবসকে কেন্দ্র করে বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলি ও ইহুদিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএসসির দাবি, আফ্রিকা মহাদেশে ইয়েমেনভিত্তিক হুতিরাও ইসরায়েলিদের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। ইরানের আশপাশের দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
আগামী অক্টোবরে ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলবিরোধী সহিংস বিক্ষোভ ও হামলা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড ও মিসর, বিশেষ করে সিনাই উপত্যকাকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিমান ট্রানজিটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থেকে বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসব বিধিনিষেধ দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। দেশটিতে ইসরায়েলিদের নিয়মিত যাতায়াতও নেই। এরপরও বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সতর্কতার তালিকায় বাংলাদেশের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।