জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নজরুল হলের ২১ জন এবং রবীন্দ্রনাথ হলের পাঁচজনসহ মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র চত্বরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অধীনে পরিচালিত হতো। নজরুল ইসলাম হল নির্মাণের পর ওই হলের শিক্ষার্থীরা নিজেদের হলের সামনে ও আশপাশের দোকানগুলোর মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার খান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে দোকানগুলোতে নিজেদের দাবির পক্ষে চিহ্ন দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে এবং এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
তিনি জানান, একপর্যায়ে নজরুল হলের প্রভোস্ট শিক্ষার্থীদের হলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তারা আবার রবীন্দ্র চত্বরে ফিরে এলে সেখানে এক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে প্রক্টর, দুই হলের ওয়ার্ডেন, হাউস টিউটর, প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
সহকারী প্রক্টর আরও বলেন, দুই পক্ষই আগে অন্য পক্ষকে হলে ফিরে যেতে বলছে। ফলে কেউই আগে সরে যেতে চাইছে না। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। প্রশাসন দুই পক্ষকে নিজ নিজ হলে ফিরিয়ে নিয়ে দোকানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সমাধানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে।
আহত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানে এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।