এক দশক ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ডোমার-বসুনিয়া সড়ক। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়ার পর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সামান্য কাজ করে সড়কটি ফেলে চলে যায়। পরে তাদের চুক্তি বাতিলের পাশাপাশি জরিমানাও করা হয়। নতুন করে দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ হলেও কার্যাদেশ অনুযায়ী আগস্টে কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সড়কটি ব্যবহারকারী হাজারো মানুষ।
ডোমার উপজেলা শহর থেকে সোনারায় ইউনিয়নের বসুনিয়া হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ-পাথরের আস্তরণ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। ঝুঁকি নিয়ে এসব গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে স্থানীয়দের মসজিদ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, ক্লিনিক, বিদ্যুৎ অফিস ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। ফলে দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ডোমার উপজেলা শহর থেকে বসুনিয়ার হাট ৬ দশমিক ৭০ কিলোমিটার, ডোমার-আমবাড়ি ১৩ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার এবং বোড়াগাড়ি থেকে বাবুরহাট ৪ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার সড়ক একটি প্যাকেজের আওতায় সংস্কারের জন্য নেওয়া হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ২২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
প্রথম দফায় কাজটি পায় মোজাহার এন্টারপ্রাইজ ও ইউনিক কনস্ট্রাকশন জেভি। কার্যাদেশ পাওয়ার পর কাজ শুরু করলেও ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানটি কাজ বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় তিন কোটি টাকা জরিমানা করে।
পরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ওই প্যাকেজের পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি পায় এসবি জেভি। ২০ কোটি ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী আগস্টে কাজ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এখনো ডোমার-বসুনিয়া সড়কে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু হোসেন বলেন, সড়কটি দিয়ে যানবাহন নিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরো সড়কে গর্ত রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
আরেক বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী ভোগান্তিতে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
অটোরিকশাচালক রহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হয়। গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিয়া ইসলাম বলেন, দুই-তিন বছর ধরে তিনি এই সড়ক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছেন। তখন থেকেই সড়কটির এমন অবস্থা দেখছেন। বৃষ্টি হলে কাদার কারণে স্কুলে যাতায়াত আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, সড়কটির মাপজোক ও পরিবর্তনসংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা রয়েছে। প্রকৌশলীরা বিষয়গুলো দেখছেন। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই কাজ শুরু হবে। একই প্যাকেজের আওতায় তিনটি সড়কের কাজ রয়েছে এবং একটি সড়কের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে অন্য সড়কগুলোর কাজও করা হবে।
জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার বলেন, আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সামান্য কাজ করে চলে যাওয়ার পর নতুন করে এসবি জেভিকে কাজ দেওয়া হয়েছে। একই প্যাকেজের আওতায় তিনটি সড়ক রয়েছে। ঠিকাদার একটি সড়কের কাজ শুরু করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে অন্যগুলোর কাজও করবে। তবে ঠিক কবে ডোমার-বসুনিয়া সড়কের কাজ শুরু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।