নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগের দাবিতে বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কলেজের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ চলছিল।
আন্দোলনকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে পড়াশোনা করলেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পাওয়ায় ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না। ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা করে এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই তাঁরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে আসছেন। একটি পরীক্ষার ফলাফলের কারণে দীর্ঘদিনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া তাঁদের জন্য হতাশাজনক। নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজ কলেজেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিভাবকেরা বলেন, তাঁদের সন্তানদের অনেকেই সামান্য নম্বরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাননি। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তাঁরা।
এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কারণে অধ্যক্ষ তাঁদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করছেন। তাঁর দাবি, এর আগে বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে এবং এখনো সেই মনোভাব অব্যাহত রয়েছে। তিনি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদের অপসারণেরও দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জানা গেছে, ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে ৪৮ শিক্ষার্থীর অভিভাবকেরা এর আগে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পাশাপাশি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছেও ভর্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কোনো সমাধান না হওয়ায় রোববার সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে চলতি বছর ১০১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১০০ জন উত্তীর্ণ হন। তাঁদের মধ্যে ৫২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজটিতে ৩৫০টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা জিপিএ-৫ নির্ধারণ করা হয়। ফলে জিপিএ-৫ না পাওয়া ৪৮ শিক্ষার্থী নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছেন।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবির বিষয়ে অবগত হন। ভর্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে নীলফামারী বিএনপির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম তুহিনও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি উভয় পক্ষকে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সেখানে বিষয়টির সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।