দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা ধসে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি বিভাগে রোগীদের ড্রেসিং ও চিকিৎসাসেবা চলাকালে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা প্লাস্টিকের সিলিং ভেদ করে নিচে মেঝেতে পড়ে। এতে জরুরি বিভাগে থাকা রোগী, স্বজন ও হাসপাতালকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় সুজাপুর প্রফেসরপাড়ার ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবকের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হচ্ছিল। পাশের বেডে শিবনগর ইউনিয়নের রহিমা বেগম (৪০) পা ভাঙা অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পলেস্তারা ধসে পড়ার ঘটনায় আহত পাঁচজনকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তারা বাড়ি ফিরে যান।
জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার সময় জরুরি বিভাগে অনেক রোগী ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, জরুরি বিভাগে ভিড় থাকায় পলেস্তারা পড়ে অনিক (২৪), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬), পাকাপানের নরেন চন্দ্র (৩৮)সহ মোট পাঁচজন আহত হন।
হাসপাতালের জুনিয়র মেকানিক আবুজার গিফারী বলেন, ছাদের নিচে প্লাস্টিকের সিলিং থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সিলিং না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগেও জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা তিনবার ধসে পড়েছে। প্রায় তিন বছর পরপর সংস্কার করা হলেও এবারসহ মোট চারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বারবার পলেস্তারা ধসে পড়ায় ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পুরোনো ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এ জেড এম মোস্তাহিদুল ইসলামসহ দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন বলে জানান এবং এ বিষয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ছাদের পলেস্তারা বারবার খসে পড়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আপাতত পাশের একটি কক্ষে জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে।