রাজধানীর মিরপুরে সাদা বস্তায় করে এক ব্যক্তিকে টেনে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অপহরণের অভিযোগ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় ওই ব্যক্তিকে জোর করে তুলে নেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধান করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর প্রাথমিকভাবে অপহরণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম। তাঁর বয়স ৫০ বছর। তিনি টাঙ্গাইলের মধুপুর থানার শুকুর আলীর ছেলে। বর্তমানে পল্লবীর ১১ নম্বর এলাকায় দি স্যালভেশন আর্মির যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে ওই প্রতিষ্ঠানে রাতের নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন নজরুল। তাঁর মাসিক বেতন ১৭ হাজার টাকা।
পুলিশের অনুসন্ধান ও নজরুলের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে দাবি করা হলেও তিনি প্রকল্প ব্যবস্থাপক নন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির একজন নিরাপত্তাকর্মী। রাতে গেটের পাশে থাকা একটি ছোট টেবিলে বসেই দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই ঘুমান।
স্থানীয় সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে নজরুল রাতের দায়িত্বে যোগ দেন। পরদিন সকাল ৬টার দিকে বদলি নিরাপত্তাকর্মী দানিয়েল সরকার এসে তাকে দেখতে না পেয়ে বিষয়টি প্রকল্প ব্যবস্থাপক বোস এলভিন অথিকে জানান। পরে প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।
ফুটেজে দেখা যায়, ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় করে নজরুলকে প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে এনে রাখেন। পরে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নজরুল নিজেই বস্তা থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর তাকে গেটের সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
এদিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নজরুলের ছেলে মেরাজ পুলিশকে জানিয়েছেন, কিছুদিন আগে তাঁর বাবা ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তাঁর দুই স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। পারিবারিক কোনো কারণে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে নজরুল আত্মগোপন করে থাকতে পারেন বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
তবে কী কারণে নজরুলকে বস্তায় করে ক্লিনিকের সামনে আনা হয়েছিল এবং পরে তিনি কোথায় গেছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনাটির পেছনের প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে নজরুলকে বস্তা থেকে বের হয়ে আসতে দেখা গেছে। এরপর তিনি গেটের সামনে বসেন এবং পরে রিকশায় করে সেখান থেকে চলে যান। ফুটেজে তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার কোনো দৃশ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।