Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / বিনোদন / খলনায়ক থেকে কৌতুক কিংবদন্তি, ফিরে দেখা এটিএম শামসুজ্জামান - Chief TV

খলনায়ক থেকে কৌতুক কিংবদন্তি, ফিরে দেখা এটিএম শামসুজ্জামান - Chief TV

2026-09-10  ডেস্ক রিপোর্ট  42 views
খলনায়ক থেকে কৌতুক কিংবদন্তি, ফিরে দেখা এটিএম শামসুজ্জামান - Chief TV

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের জন্মদিন আজ। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে নানাবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী অভিনয়ের পাশাপাশি চিত্রনাট্য ও কাহিনি রচনাতেও রেখেছেন অনন্য অবদান।

এটিএম শামসুজ্জামানের পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুরের ভোলাকোটের বড়বাড়ি। তার বাবা নূরুজ্জামান ছিলেন খ্যাতনামা আইনজীবী এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক সহচর। মা নুরুন্নেসা বেগম। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়।

শিক্ষাজীবনে পগোজ স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহীর লোকনাথ হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন এটিএম শামসুজ্জামান। পগোজ স্কুলে তার সহপাঠী ছিলেন আরেক কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্র। পরে ময়মনসিংহ সিটি কলেজিয়েট হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন তিনি।

১৯৬৫ সালে ‘নয়া জিন্দগানী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সিনেমায় তার যাত্রা শুরু হলেও ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ চলচ্চিত্রে খবরের কাগজ বিক্রেতার ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।

অভিনয়ের পাশাপাশি গল্প ও চিত্রনাট্য লেখাতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন এটিএম শামসুজ্জামান। ১৯৭১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রের কাহিনি ও চিত্রনাট্য ছিল তার লেখা। ছবিটি অভিনেতা ফারুকের চলচ্চিত্রজীবনেরও গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়া ‘মলুয়া’ চলচ্চিত্রের সংলাপ এবং ‘ওরা ১১ জন’ ও ‘লালন ফকির’-এর মতো চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি।

খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও এটিএম শামসুজ্জামান নিজেকে একই ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখেননি। ‘নয়নমণি’ ও ‘লাঠিয়াল’-এর মতো চলচ্চিত্রে খলচরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ‘যাদুর বাঁশি’, ‘রামের সুমতি’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কৌতুক চরিত্রেও দর্শকের মন জয় করেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। নিজের লেখা কাহিনির ‘দায়ী কে?’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৮৭ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। পরবর্তীতে ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’ ও ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনয়ের জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

২০০৫ সালে ‘হাজার বছর ধরে’ চলচ্চিত্রে মকবুল এবং ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ চলচ্চিত্রে গাজী এবাদত মোল্লা চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের সেরা চলচ্চিত্র অভিনেতার সম্মান পান। ‘গেরিলা’ ও ‘চোরাবালি’ চলচ্চিত্রেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন এটিএম শামসুজ্জামান। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে রুনী জামানের সঙ্গে সংসার করেন এই শিল্পী। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। জীবনের শেষদিকে ব্যক্তিগত জীবনের নানা কঠিন পরিস্থিতিরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এসবের মধ্যেও অভিনয় ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য অবস্থান তৈরি করে গেছেন তিনি।

২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৭৯ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান বাংলা চলচ্চিত্রের এই বরেণ্য শিল্পী। মৃত্যুর পরও তার অভিনীত অসংখ্য চরিত্র দর্শকের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।


Share: