কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ছয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধর, অনধিকার প্রবেশ ও ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্তরা। তাঁদের দাবি, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে বাধা দিতেই তাঁদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের মইদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হুমায়ুন কবির আলতাফ নামে এক ব্যক্তি ভূরুঙ্গামারী থানায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পরে আরও একজনের নামও অভিযোগে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন পাথরডুবি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম বকুল, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মতিয়ার রহমান, মাসুদ রানা, হাসেম আলী ও শরিফুল ইসলাম।
অভিযুক্তদের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁরা জানতে পারেন আলতাফের বাড়িতে সিরাজগঞ্জ থেকে তিন তরুণ ও একজন তরুণী এসেছেন এবং তাঁরা সেখানে মাদক সেবন করছেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা ওই বাড়িতে যান। সেখানে মাদক সেবনের সরঞ্জাম দেখতে পাওয়ার দাবি করেন তাঁরা।
তাঁদের ভাষ্য, বহিরাগত ব্যক্তিদের পরিচয় ও সেখানে আসার কারণ জানতে চাইলে সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই চারজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পরদিনই তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত হাসেম আলী দাবি করেন, খবর পেয়ে তিনি আলতাফের বাড়িতে গিয়ে কয়েকজনকে মাদক সেবন করতে দেখেন। পরে কৌশলে ভিডিও ধারণ করে বিষয়টি স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আলতাফের বাড়িতে বিভিন্ন সময় মাদকসংশ্লিষ্ট লোকজনের যাতায়াত রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক ও অন্তর আহমেদ এলাকায় মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।
মইদাম মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক শাহ আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে বিষয়টি উদ্বেগের। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা।
তবে অভিযোগকারী হুমায়ুন কবির আলতাফের দাবি, তাঁর বাড়িতে আত্মীয়স্বজন বেড়াতে এসেছিলেন। এলাকার লোকজন সেখানে গিয়ে তাঁদের মারধর করে টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, আলতাফের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
ওসি জানান, পুলিশ ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করেছে। আলতাফের বাড়িতে সিরাজগঞ্জ থেকে কয়েকজন লোক মাঝেমধ্যে আসেন। স্থানীয় মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা তাঁদের বিষয়ে জানতে সেখানে যান। পরিচয় ও আসার কারণ সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
ছয়জনের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে অভিযোগটি করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে মনে হয়েছে। অভিযোগে সাক্ষী করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসার অভিযোগ এবং মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা হোক।