শরতের শুভ্রতায় সেজেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর। সাদা বকের সারির মতো বাতাসে দুলছে কাশফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, বিস্তীর্ণ জায়গাজুড়ে যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে প্রকৃতি। আর এই সৌন্দর্যের টানে প্রতিদিনই ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুরা।
শাহজাদপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া এলাকায় প্রায় দুই বিঘা জায়গাজুড়ে ফুটেছে কাশফুল। ভাদ্র মাসের শেষদিকে ফুটতে শুরু করা এসব কাশফুল শরতের পুরো সময়জুড়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। কার্তিক মাস পর্যন্ত এ সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে বলে স্থানীয়রা জানান।
লম্বা সবুজ পাতার বুক চিরে বেরিয়ে আসা কাশফুল কোথাও থোকায় থোকায় দুলছে, আবার কোথাও ঘন গুচ্ছ হয়ে তৈরি করেছে শুভ্র আবরণ। মৃদু বাতাসে কাশফুলের দোল খাওয়ার দৃশ্য সহজেই মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
প্রতিদিন বিকেল হলেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে আশপাশের এলাকা থেকে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন কান্দাপাড়ার কাশবনে। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
শেষ বিকেলে কাশবনের সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। গ্রামীণ পরিবেশ আর সূর্যাস্তের আবহে সাদা কাশফুলের দৃশ্য উপভোগ করতে তখন দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও বাড়ে। শিশুদের কেউ কেউ কাশবনের পাশে খেলায় মেতে ওঠে, আবার তরুণ-তরুণীরা ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
শহরের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে একটু স্বস্তি পেতে মানুষ প্রতিনিয়ত ছুটে আসছেন এই কাশবনে। শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে অনেকে এখানে সময় কাটাতে আসছেন।
শহর থেকে কাশবনে বেড়াতে আসা নুপুর কুমার রায় বলেন, একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে বেশ ভালোই লাগে। শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে তার ভালো লেগেছে।
কান্দাপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমান হাকিম বলেন, কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসেন। তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি বেশি। তবে কাশফুল বেশি দিন থাকে না। কিছুদিন পর বাতাসে ফুল ঝরে গেলে এই সৌন্দর্যও আর থাকবে না।
ঘুরতে আসা সুমাইয়া খাতুন বলেন, বিকেল হলেই বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতিপ্রেমীরা এখানে ভিড় করেন। সবাই কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। পরিবার নিয়ে ঘোরার জন্যও জায়গাটি বেশ সুন্দর।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রকৃতির পরিচিত অনুষঙ্গগুলোর একটি কাশফুল। নদ-নদীর তীর, চর ও প্রাকৃতিক জলাশয়ের আশপাশে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ফুল শরতের আগমনী বার্তা বহন করে। সৌন্দর্যের পাশাপাশি কাশবনের বিভিন্ন অংশের ঘাস গ্রামাঞ্চলে ঘরের ছাউনি, পানের বরজের আচ্ছাদন ও জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সব মিলিয়ে শরতের শুভ্রতায় শাহজাদপুরের কান্দাপাড়া এখন হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য। প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর আনাগোনা, আর কাশফুলের দোল খাওয়া সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন ছোট-বড় সবাই।