কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকট নিরসনে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর যৌথ তৎপরতা শুরু হয়েছে। কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, ভূমি প্রশাসন ও পুলিশ মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও কৃষকদের খোঁজখবর নেওয়া ও পরিস্থিতি তদারকিতে সক্রিয় হয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা, ভূমি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা সার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনরাত কাজ করছেন। প্রশাসনের এই তৎপরতার পাশাপাশি জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী আলাউদ্দিন মন্ডল ও সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দের নেতৃত্বে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তারা সার সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের সমস্যার কথা শুনছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাহফুজুল ইসলাম কিরণের নেতৃত্বেও দলটির নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষের খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সার সংকটের এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা তৈরি করছে।
তবে সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে কারা কতটা মাঠে সক্রিয়ভাবে কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সার সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতি বা প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও দায়িত্বশীল পর্যায়ের নেতাদের কৃষকদের সংকটে আশানুরূপভাবে মাঠে দেখা যাচ্ছে না বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
কৃষকদের জন্য সার সংকট এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও কৃষকের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয়দের মতে, কৃষকের দুর্ভোগ কমাতে শুধু সাময়িক তৎপরতা নয়, সার সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করাও জরুরি। প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভূরুঙ্গামারীর সার সংকট দ্রুত কাটবে—এমন প্রত্যাশাই এখন কৃষকদের।