Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / কক্সবাজার / কক্সবাজারের বনে প্রথমবার ধরা পড়ল মেঘলা চিতা - Chief TV

কক্সবাজারের বনে প্রথমবার ধরা পড়ল মেঘলা চিতা - Chief TV

2026-09-10  ডেস্ক রিপোর্ট  92 views
কক্সবাজারের বনে প্রথমবার ধরা পড়ল মেঘলা চিতা - Chief TV

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রথমবারের মতো বিরল মেঘলা চিতার উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা। ইনানী জাতীয় উদ্যানে ক্যামেরা ট্র্যাপে প্রাণীটির পাঁচটি ছবি ধরা পড়েছে। একই গবেষণায় আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতিও শনাক্ত করা হয়েছে।

এ মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের একটি সংরক্ষিত বনে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়।

গবেষণায় ইনানী জাতীয় উদ্যানের ৩২টি স্থানে ১৫টি ক্যামেরা বসিয়ে বন্য প্রাণীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রাণীটির পায়ের ছাপ ও মল পরীক্ষা করেও এর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস জানান, ইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। যেসব এলাকায় জলাশয় ও পানির প্রবাহ রয়েছে, সেসব স্থানে বন্য প্রাণীর উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্যানটির প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী, যা মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। ঘন ঝোপঝাড় ও গাছপালাযুক্ত এলাকাতেই প্রাণীটির উপস্থিতি বেশি পাওয়া গেছে।

মেঘলা চিতার পাশাপাশি গবেষণায় এশিয়ান হাতি, মুখপোড়া হনুমান, উল্টোলেজি বানর, লজ্জাবতী বানর, শজারু, রেসাস মেকাক, শিয়াল, গন্ধগোকুল, খাটাশ, বনবিড়াল, চিতা বিড়াল, বন্য শূকর, কাঁকড়াভুক বেজি, গোরখোদক, ইরাবতী কাঠবিড়ালি, মায়া হরিণ, ফেরেট বেজার, বিভিন্ন প্রজাতির বাদুড় ও কাঠবিড়ালির উপস্থিতিও শনাক্ত হয়েছে।

বন্য প্রাণী গবেষক রেজা খান বলেন, মেঘলা চিতা অত্যন্ত বিরল প্রাণী। ইনানীর বনে এর উপস্থিতি প্রমাণ করে, সেখানে এখনো কিছু এলাকায় সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র টিকে আছে। তাই প্রাণীটির আবাসস্থল চিহ্নিত করে বিশেষ সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

গবেষকদের মতে, একসময় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার বনাঞ্চল পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সময়ের সঙ্গে বন খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়েছে। মেঘলা চিতা মূলত গাছে চলাফেরা করে এবং গাছ থেকে গাছে লাফিয়ে শিকার করে। ফলে ইনানীর বনাঞ্চলে এর আবাসস্থল সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ইনানী জাতীয় উদ্যানের চারপাশে মানুষের বসতি, রোহিঙ্গা শিবিরের সম্প্রসারণ, জ্বালানির জন্য গাছ কাটা এবং কৃষিজমির অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্য প্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের আনাগোনা ও কৃষিকাজ বেশি এমন এলাকায় প্রাণীর সংখ্যা ও বৈচিত্র্যও তুলনামূলক কম।

বন্য প্রাণী সংরক্ষণে বনভূমি দখল ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ, পাহাড়ি ছড়া ও খাল সুরক্ষা এবং উদ্যানের চারপাশে বাফার জোন তৈরির সুপারিশ করেছেন গবেষকরা। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে মেঘলা চিতাকে মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইইউসিএন। পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে প্রাণীটির দেখা মিললেও কক্সবাজারের কোনো সংরক্ষিত বনে আগে ক্যামেরা ট্র্যাপে এর ছবি ধরা পড়ার তথ্য ছিল না।

গবেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কক্সবাজারের উপকূলীয় বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং মেঘলা চিতাসহ বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীগুলো ভবিষ্যতে আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে।


Share: