নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরে চালু করা ‘মহিলা বাস বা পিংক বাস সার্ভিস’ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ‘মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়িতে চলছে পিংক বাস সার্ভিস’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।
বিআরটিসি জানায়, গত ১৮ আগস্ট নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রার লক্ষ্যে তিন শহরে পিংক বাস সার্ভিস চালু করা হয়। নতুন এ সেবা নারী যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ‘প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল’কে বাসের ‘প্রকৃত আয়ুষ্কাল’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিআরটিসির মতে, এতে তথ্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিআরটিসি জানায়, যানবাহনের সড়কে চলাচলের বৈধতা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। পিংক বাস বহরে থাকা ১৪টি বাসের প্রতিটিরই বৈধ অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল রয়েছে এবং বিআরটিএ থেকে দেওয়া এসব বাসের ফিটনেস সনদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ রয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিআরটিসি আরও জানায়, পিংক বাস সার্ভিস চালুর আগে বা পরে তারা কোথাও দাবি করেনি যে নতুন বাস দিয়ে এ সেবা চালু করা হয়েছে। সক্ষমতার মধ্যে থাকা পুরোনো বাসগুলো নিজস্ব কারখানায় প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পর ফিটনেস সনদ নিয়েই সেবায় যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পিংক বাস বহরে দ্রুত ১০০টি বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বাস কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিসি বলেছে, গণমাধ্যমের ইতিবাচক, গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনাকে তারা স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে পিংক বাস সার্ভিস, নারী চালক এবং বিআরটিসির উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা গণমাধ্যমগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।