Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / ক্যাম্পাস / ‘ডোরি মাছ’ বলে রেস্টুরেন্টে পরিবেশন, পরীক্ষায় মিলল পাঙাশ - Chief TV

‘ডোরি মাছ’ বলে রেস্টুরেন্টে পরিবেশন, পরীক্ষায় মিলল পাঙাশ - Chief TV

2026-09-17  ডেস্ক রিপোর্ট  32 views
‘ডোরি মাছ’ বলে রেস্টুরেন্টে পরিবেশন, পরীক্ষায় মিলল পাঙাশ - Chief TV

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা হচ্ছে দেশীয় পাঙাশ মাছ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণাটি করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও ফিশ জেনেটিকস এবং কনজারভেশন বিশেষজ্ঞ ড. রাকেব-উল-ইসলাম।

গবেষণার অংশ হিসেবে ঢাকা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের অন্তত তিনটি করে অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব নমুনা থেকে ডিএনএ পৃথকীকরণ, পিসিআর পরীক্ষা ও ডিএনএ অনুক্রম বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষক ড. রাকেব-উল-ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় সংগৃহীত নমুনাগুলোর ডিএনএ পাঙাশ মাছের প্রজাতি প্যাঙ্গাসিয়াস হাইপোফথ্যালমাসের সঙ্গে মিলে গেছে। অর্থাৎ, রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা মাছগুলো মূলত পাঙাশ মাছ বলে গবেষণায় শনাক্ত হয়েছে।

ড. রাকেব-উল-ইসলাম বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে দেশে ডোরি মাছ আমদানি শূন্যের কোঠায় থাকার একটি প্রতিবেদন দেখে বিষয়টি নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে ‘ডোরি ফিশ’ নামে পরিবেশন করা মাছের সঙ্গে পাঙাশের মিল পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, সাধারণ ভোক্তাদের পক্ষে পরিবেশন করা মাছ দেখে সেটি কোন প্রজাতির, তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ রেস্তোরাঁয় পরিবেশনের সময় মাছের মাথা, চামড়া বা প্রজাতি শনাক্তের মতো বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকে না। তাই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন।

ডোরি বা জন ডোরি একটি সামুদ্রিক মাছ। এর শরীর চ্যাপ্টা, মাথা তুলনামূলক বড় এবং শরীরের দুই পাশে গোলাকার কালো দাগ থাকে। এই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে মাছটি সহজেই শনাক্ত করা যায়।

স্বাদ ও গঠনের কারণে বিভিন্ন দেশে ডোরি মাছের চাহিদা রয়েছে। এর মাংস সাদা ও নরম হলেও তুলনামূলকভাবে সহজে ভেঙে যায় না। সমুদ্রে মাছটির প্রাপ্যতা কম এবং পুরো মাছের তুলনায় খাওয়ার উপযোগী অংশও কম হওয়ায় এর দাম তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে, দেশে চাষের পাঙাশ মাছ সহজলভ্য এবং তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়। গবেষকের মতে, ‘ডোরি’ নামে পাঙাশ পরিবেশন করা হলে ভোক্তারা বেশি দাম দিয়ে অন্য প্রজাতির মাছ খাওয়ার পাশাপাশি মাছের প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কেও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

গবেষণায় শুধু ডোরি মাছ নয়, হোটেল-রেস্তোরাঁয় ‘টেংরা মাছ’ নামেও নদীর পাঙাশের পোনা বা জুভেনাইল পরিবেশনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন গবেষক।

ড. রাকেব-উল-ইসলামের মতে, পাঙাশের পোনা অন্য মাছের নামে বাজারজাত বা পরিবেশন করা হলে তা ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও প্রভাব ফেলতে পারে। মাছের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ভিন্ন নামে বাজারজাত বা পরিবেশন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।


Share: