বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় টহল দিচ্ছিল। এ সময় একটি সন্দেহভাজন ট্রলারকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলে ট্রলারে থাকা ৬ থেকে ৭ জন ব্যক্তি সেটি বনের পাড়ে ভিড়িয়ে সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়।
কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৩৭ সক্রিয় সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, পশুর নদীর তীরে অবস্থিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুসংস্থানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রকল্পটির কার্যক্রমে নদীর পানি ও আশপাশের পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি তাদের।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন এবং আফতাব বাহিনীর আটজন সদস্য রয়েছেন। চার বাহিনীর প্রধানসহ সদস্যদের আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। জীবিকার পথ খুলে যাওয়ায় উপকূলীয় জনপদগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল বোনা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুতের ব্যস্ততা বাড়লেও জেলেদের মধ্যে স্বস্তির বদলে দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে ফিরতে যাওয়া এসব মানুষের বড় উদ্বেগ জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।
দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। মাছের প্রজনন ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বনে সব ধরনের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে গত জুন ও জুলাই মাসে পশ্চিম বন বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দায়ের হওয়া ৮৯টি মামলার মধ্যে ১৯টি পিওআর, ৬৯টি ইউডিওআর এবং একটি সিওআর মামলা রয়েছে। অবৈধভাবে বনে প্রবেশ, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং বন্যপ্রাণী নিধনের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বৈরী আবহাওয়া থেকে বাঁচতে জেলেরা শ্যালার চরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা সশস্ত্র দস্যুরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তিনটি ট্রলার থেকে পাঁচ জেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়ে যায়। এ সময় একটি ফিশিং ট্রলারও ছিনিয়ে নেয় তারা।
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ কেওড়া উপকূল রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের খাদ্যসংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। নদী-খাল ও লবণাক্ত চরাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এই উদ্ভিদের ফল এখন উপকূলের মানুষের খাদ্য ও আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠছে।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনের ভেতর থেকে হরিণ শিকার করে পাচারের উদ্দেশ্যে নলিয়ান এলাকায় অবস্থান করছিল একটি চক্র।
বাগেরহাটের শরণখোলায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি অজগর উদ্ধার করেছে বন বিভাগ, যা পরে বগী ফরেস্ট স্টেশন সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯-১০ বছর বয়সী এই বাঘিনী চলতি জুলাই মাসেই আবার তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে। তবে তার আগে গলায় স্যাটেলাইট-যুক্ত রেডিও কলার পরানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে তার গতিবিধি, শিকার সক্ষমতা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।