Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ - Chief TV

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ - Chief TV

2026-09-10  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  44 views
সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের আত্মসমর্পণ - Chief TV

সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ সক্রিয় সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ২৯ বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের বিভিন্ন সক্রিয় দস্যু বাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৩৭ সক্রিয় সদস্য এর আগে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।

এর মধ্যে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমতসহ ১২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণের সময় তারা একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগানসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র জমা দেন। এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের গুলি, পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং ছয়টি ওয়াকিটকি জমা দেওয়া হয়।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত, সাইফুল্লাহ মোড়ল, এখলাছুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন গাজী ও আব্দুর রহমান শেখ খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম, মিন্টু গাজি, আজিজুল গাজী ও শাহজাহান মালী সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার এবং আজিজুর রহমান বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতিসহ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনের সক্রিয় সব বনদস্যুকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের শূন্য সহনশীলতা নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share: