সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ২২ জুলাই দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের প্রায় দুই মাস পর নিজের অবস্থান জানিয়েছেন গাজী নজরুল। তিনি এখনো নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর এমপি হিসেবে দাবি করছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নিজের অবস্থান জানিয়ে গাজী নজরুল বলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ঠিকই, তবে তার দাবি অনুযায়ী জামায়াতের সদস্যপদ এখনো বহাল রয়েছে। তিনি বলেন, খাতা-কলমে তিনি এখনো জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছেন বলে তিনি জানেন।
তবে গাজী নজরুলের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, বহিষ্কারের পর তিনি আর জামায়াতের কেউ নন। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ জানান, গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানিয়ে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও জানিয়েছেন, বহিষ্কারের পর সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এর আগে জানিয়েছিলেন, শুধু দল থেকে বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। সংসদ বা স্পিকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এলে আইন ও সংবিধান পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজী নজরুল ইসলাম সংসদে জামায়াতের এমপি হিসেবে থাকছেন, নাকি তার আসন নিয়ে পরবর্তী কোনো সাংবিধানিক বা আইনগত সিদ্ধান্ত হবে—এ বিষয়টি এখনো স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত জুলাইয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর থেকেই তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।