Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও বিক্রি - Chief TV

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও বিক্রি - Chief TV

2026-09-16  ডেস্ক রিপোর্ট  49 views
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ ও বিক্রি - Chief TV

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে সুখী দম্পতি মনে হলেও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পেছনে রয়েছে ভিন্ন গল্প—এমন অভিযোগ করেছেন নাহিদা হক মুনা নামের এক তরুণী। তার দাবি, বিয়ে ছাড়াই বছরের পর বছর কাউসার আজীম আসিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের মধ্যে তাদের একটি কন্যাসন্তানও জন্ম নেয়।

মুনার অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে ব্যবহার করে আসিফ তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে এসব ভিডিও বিক্রি ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, সাইবার নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে আসিফের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানিয়েছেন মুনা। তার দাবি, মামলা হওয়ার পর থেকেই আসিফ আত্মগোপনে রয়েছেন।

মুনার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আসিফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসিফ তাকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেতেন বলেও দাবি করেন মুনা।

মুনার অভিযোগ, এসব সময়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্ত গোপনে ক্যামেরা ও মুঠোফোনে ধারণ করা হতো। পরবর্তীতে জানতে পারেন, ওই ভিডিওগুলো বিভিন্ন বিদেশি পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, আসিফের কাছে তার এমন শত শত ব্যক্তিগত ভিডিও রয়েছে।

মুনা জানান, শুরুতে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও একপর্যায়ে ভিডিও ধারণের বিষয়টি তার নজরে আসে। এরপর তিনি ভিডিও ধারণে আপত্তি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্পর্কের প্রায় দুই বছর পর মুনা জানতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তার দাবি, এরপরও আসিফ বিয়েতে রাজি হননি। পরিবারের নানা অজুহাতে বিয়ের বিষয়টি দীর্ঘদিন পিছিয়ে দেওয়ার পর একপর্যায়ে মুনাকে বাদ দিয়ে অন্য এক নারীকে বিয়ে করেন আসিফ। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে জানান মুনা।

মুনার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতারণার অভিযোগে আসিফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তিনি। পরে মামলাটি নিষ্পত্তি হলে নতুন করে সংসার শুরু করেন মুনা। তবে তার অভিযোগ, আসিফ সেই সম্পর্কও মেনে নিতে পারেননি।

মুনার দাবি, তার ব্যক্তিগত ভিডিও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে পাঠিয়ে দেন আসিফ। এর ফলে বিয়ের মাত্র নয় দিনের মাথায় তার নতুন সংসার ভেঙে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর আসিফের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনে আরও দুটি মামলা করেন মুনা। তার দাবি, এসব মামলা হওয়ার পর থেকেই আসিফ আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন তিনি।

মুনার অভিযোগ, শুধু তার সঙ্গেই নয়, আরও একাধিক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন আসিফ। তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিওও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সামাজিক ও পারিবারিক সম্মানের কারণে অনেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না বলেও অভিযোগ করেন মুনা।

নিজের অভিযোগের পক্ষে একটি কলরেকর্ড এবং আসিফের সঙ্গে বিভিন্ন তরুণীর ছবি থাকার কথা জানিয়েছেন মুনা। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসা না থাকলেও আসিফকে দামি গাড়িতে চলাফেরা করতে এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করতে দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।

মুনার প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ভিডিও বিভিন্ন নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটে বিক্রির মাধ্যমে এসব অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছে কি না। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাউসার আজীম আসিফের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে ওই নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে প্রতিবেদককে খুদেবার্তা পাঠিয়ে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

পরে আসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের ঘটনা বর্তমানে মামলা, আদালত ও তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। মুনার করা মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।


Share: