জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোংলায় পশুর নদীর তীরে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক নতুন প্রকল্প বন্ধ এবং রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পরিবেশ আন্দোলনকারীরা।
শুক্রবার সকালে উপজেলার কানাইনগরে পশুর নদীর তীরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবেশকর্মী ও জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকায় নতুন করে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান।
মানববন্ধনে ধরার নেত্রী অসীমা মন্ডল ও বৃষ্টি সরকার বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর থেকে মোংলা ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের সংগঠক রেশমা খাতুন এবং জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার দাবি করেন, কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের বর্জ্য ও দূষণের কারণে পশুর নদীর পানির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব মৎস্যসম্পদ ও নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর পড়ছে বলেও তারা দাবি করেন।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের মেহেদী হাসানসহ অন্য বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রামপালসহ বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পগুলোর পরিবেশগত প্রভাব পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু আশ্বাস নয়, জ্বালানি খাতে বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন প্রয়োজন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো না হলে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
কর্মসূচি থেকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ক্ষতিকর বলে বিবেচিত জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্প পুনর্বিবেচনা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি গ্রহণের দাবি জানানো হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।