Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / মানত করতে পীরের মাজারে যাওয়ার পথে ৩ জনের মৃ'ত্যু - Chief TV

মানত করতে পীরের মাজারে যাওয়ার পথে ৩ জনের মৃ'ত্যু - Chief TV

2026-09-18  ডেস্ক রিপোর্ট  24 views
মানত করতে পীরের মাজারে যাওয়ার পথে ৩ জনের মৃ'ত্যু - Chief TV

সন্তানের আশায় মানত করতে মাজারে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আঁখি আক্তারসহ তিনজন। ধামরাইয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে আঁখি আক্তার, তাঁর ১২ বছর বয়সী ভাগনে জাকারিয়া এবং অটোরিকশাচালক জুয়েল রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধামরাই উপজেলার আমতা ইউনিয়নের পশ্চিম নান্দেশ্বরী বটতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইলে। জাকারিয়া ছিলেন আঁখির বড় বোনের ছেলে।

জানা গেছে, বিয়ের পাঁচ বছরেও সন্তান না হওয়ায় সন্তানের আশায় মানত করতে স্বামী, বাবা, বোন, ভাগনে ও ভাগনিকে সঙ্গে নিয়ে মৈনট পীরের বাড়ির মাজারে যাচ্ছিলেন আঁখি। পথে নান্দেশ্বরী এলাকায় তাদের বহনকারী সিএনজির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোরিকশাচালক জুয়েল ও জাকারিয়ার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আঁখিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তাঁরও মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন লাকী আক্তার, তাঁর পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে সাদিয়া, আবুল হোসেন ও সেলিম আহমেদ।

আহত আবুল হোসেন একসঙ্গে মেয়ে ও নাতিকে হারিয়ে হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ছোট মেয়ের সন্তান না হওয়ায় মানত পূরণ করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাজারে যাচ্ছিলেন। এর আগেও বড় মেয়ের সন্তান হওয়ার পর মানত পূরণ করেছিলেন। কিন্তু এবার মাজারে যাওয়ার পথেই মেয়ে ও নাতিকে হারাতে হলো।

নিহত আঁখির স্বামী সেলিম আহমেদ বলেন, তাঁদের বিয়ের পাঁচ বছর হলেও কোনো সন্তান হয়নি। এ কারণে তাঁরা মৈনট পীরের বাড়িতে মানত করতে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও স্ত্রীর বড় ভাগনে মারা গেছেন।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. রোকনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে আনা হলে তিনজন অচেতন অবস্থায় ছিলেন। তাদের শরীরে গুরুতর আঘাত ও প্রচুর রক্তপাত ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আঁখিকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ধামরাই থানার কাওয়ালীপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


Share: