Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ট্রেন্ডিং / আজ আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে মিষ্টি আয়োজনে জমুক দিন - Chief TV

আজ আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে মিষ্টি আয়োজনে জমুক দিন - Chief TV

2026-09-13  ডেস্ক রিপোর্ট  33 views
আজ আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে মিষ্টি আয়োজনে জমুক দিন - Chief TV

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস। মিষ্টি স্বাদের জনপ্রিয় এই খাবারকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজন হয়ে থাকে। দিনটি শুধু চকলেট খাওয়ার উপলক্ষ নয়, বরং এর দীর্ঘ ইতিহাস জানা, নতুন নতুন স্বাদ চেখে দেখা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও সুযোগ।

চকলেটের প্রতি ভালোবাসা নেই—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট কিংবা বিভিন্ন স্বাদের চকলেট—পছন্দের ধরন আলাদা হলেও অনেকের কাছেই এটি আনন্দের অন্যতম খাবার।

আন্তর্জাতিক চকলেট দিবসে ঘরেই আয়োজন করা যেতে পারে ছোট্ট চকলেট আসর। দুধ চকলেট, গাঢ় চকলেট ও বিভিন্ন মাত্রার কোকোযুক্ত চকলেট ছোট ছোট টুকরো করে সাজিয়ে পরিবারের সবাই মিলে স্বাদ নেওয়া যায়। প্রতিটি চকলেট খাওয়ার পর পানি বা সাদামাটা বিস্কুট খেলে স্বাদের পার্থক্য আরও সহজে বোঝা যায়।

চকলেট দিয়ে শিশুদের রান্নাঘরের কাজের সঙ্গেও পরিচয় করানো যেতে পারে। চকলেট, বাদামের মাখন ও ওটস দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ছোট ছোট চকলেটের বল। গলানো চকলেটের সঙ্গে বাদামের মাখন ও ওটস মিশিয়ে ছোট বল তৈরি করে কিছুক্ষণ ঠান্ডা করলেই তা পরিবেশনের উপযোগী হয়ে যায়। তবে কারও কোনো খাবারে অ্যালার্জি বা বিশেষ খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা থাকলে উপকরণ ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকা জরুরি।

চকলেটের সঙ্গে নোনতা বাদামের মচমচে স্বাদও বেশ ভালোভাবে মিলে যায়। তাই চকলেটের পাশে অল্প নোনতা বাদাম রাখা যেতে পারে। তবে যাদের জন্য বাদাম উপযোগী নয়, তাদের ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। বাড়তি চকলেট পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেও দিনটি হয়ে উঠতে পারে আরও আনন্দময়।

দিনের শেষে পরিবারের সবাই মিলে প্রিয় গল্পের বই পড়েও চকলেট দিবস উদযাপন করা যেতে পারে। শিশুদের নিয়ে গল্পের চরিত্রগুলোর সংলাপ অভিনয় করে পড়লে তৈরি হতে পারে আনন্দময় পরিবেশ। গল্প পড়ার সময় শেষ চকলেটের টুকরোটি উপভোগ করে দিনের সমাপ্তিও হতে পারে সুন্দরভাবে।

চকলেটের ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরোনো। প্রায় চার হাজার বছর আগে বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলের প্রাচীন জনগোষ্ঠী কোকো বীজ থেকে পানীয় তৈরি করত। সে সময় চকলেট ছিল বিশেষ ও মূল্যবান খাবার। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচারেও এর ব্যবহার ছিল।

পরবর্তী সময়ে মায়া ও আজটেক সভ্যতায় কোকো বীজের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়। একসময় কোকো বীজ বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতো। মায়া সভ্যতার মানুষ চকলেটকে দেবতাদের পানীয় হিসেবেও বিবেচনা করত।

প্রায় ষোড়শ শতকে চকলেট ইউরোপে পৌঁছায়। পরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চকলেটের দোকান জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চকলেট তৈরির প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে এটি সাধারণ মানুষের কাছেও সহজলভ্য হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগে ইউরোপে চকলেটের বার তৈরি ও বিক্রি শুরু হয়। এরপর কেক, বিস্কুট, মিষ্টি, পানীয়সহ নানা খাবারে চকলেটের ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে।

চকলেট শুধু মিষ্টান্ন তৈরিতেই ব্যবহৃত হয় না। কিছু রান্নাতেও গাঢ় চকলেট বা কোকো ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন মাংসের খাবার, ঝোল, সালাদসহ নানা পদে বিশেষ স্বাদ আনতেও এর ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি চকলেট দিয়ে কেক, ব্রাউনি, বিস্কুট ও কাপকেকসহ তৈরি করা যায় নানা ধরনের খাবার।

আন্তর্জাতিক চকলেট দিবস তাই শুধু প্রিয় খাবারটি উপভোগ করার দিন নয়। এর ইতিহাস জানা, নতুন স্বাদ চেখে দেখা, নিজের হাতে কিছু তৈরি করা এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও একটি সুন্দর উপলক্ষ এই দিন।


Share: