ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের নবনির্মিত ক্লাবরুমের উদ্বোধনী নামফলক ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হল সংসদ। নামফলকে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দীন খানের নাম থাকাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হল সংসদ। এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছে তারা। তবে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি হাসানুল বান্না স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক, সৃজনশীল ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য হল সংসদের উদ্যোগে এবং হল প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্লাবরুমটি নির্মাণ করা হয়েছে।
হল সংসদের দাবি, ক্লাবরুমের পরিকল্পনা, বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে হল সংসদের প্রতিনিধিরা কাজ করেছেন। অর্থায়নের অর্ধেক হল প্রশাসন বহন করেছে এবং বাকি অর্থ প্রাধ্যক্ষের অনুমতিতে ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দীন খানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা করা হয় বলেও জানানো হয়েছে।
হল সংসদ আরও জানায়, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের পর উদ্বোধনী নামফলক প্রস্তুত করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবহিত করা হয়। পরে নামফলকে মহিউদ্দীন খানের নাম থাকাকে কেন্দ্র করে সেটি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তারা।
তবে এ ঘটনায় ভিন্ন বক্তব্যও এসেছে। একটি প্রতিবেদনে বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ ড. স ম আলী রেজা বলেন, নামফলক বসানোর বিষয়ে হল সংসদ তার কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। তিনি আরও বলেন, যারা নামফলক ভেঙেছে তারাও সঠিক কাজ করেনি এবং বিষয়টি পরবর্তী প্রশাসনিক সভায় আলোচনা করা হবে।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে হল সংসদ। সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রকৃতভাবে জড়িতদের শনাক্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ভাঙচুর হওয়া নামফলক দ্রুত পুনঃস্থাপন এবং ক্লাবরুমের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালুর জন্য হল প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে বিজয় একাত্তর হল সংসদ। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রদলের সমালোচনা করেছেন। তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উঠে এসেছে। তবে ঘটনাটির দায় কার, তা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের ফলই চূড়ান্তভাবে বিবেচ্য হবে।