Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’,নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের - Chief TV

‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’,নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের - Chief TV

2026-09-12  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’,নবীনবরণে কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্রদের - Chief TV

আগের একটি কনসার্টকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হওয়ার এক মাস না পেরোতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, আগের ঘটনার পর আবার কনসার্টের উদ্যোগ নেওয়া ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’র মতো।

এ ঘটনায় কনসার্ট বন্ধের দাবিতে শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ধর্মীয় শিক্ষা ও আলেম-উলামার সমৃদ্ধ জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি গভীরভাবে জড়িত। তাই গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি তাদের।

তাদের ভাষ্য, নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উৎসবমুখরভাবে করা যেতে পারে। তবে এ আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা উপেক্ষা করা উচিত নয়।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আগের কনসার্টকে কেন্দ্র করে ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এক মাসও না যেতেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাঁদের কাছে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন নাচ-গানের মধ্যে এক তরুণী হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় যে পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়েছিল, একই ধরনের পরিস্থিতি আবার তৈরি হবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে কনসার্ট আয়োজনের বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ সংসদ সদস্য ও প্রশাসকের কাছে গেছে—এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আবেদনও করা হয়নি। বিষয়টি জানানো হলে এবং পরামর্শ দেওয়া হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অধ্যক্ষ বলেন, এটি সেভাবে কনসার্ট নয়, বরং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ—এই তিনটি কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে এসব কর্মসূচি আয়োজনের কথা রয়েছে।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শকের আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। মাদরাসা শিক্ষার্থীরা পরদিন পরীক্ষা থাকায় পড়াশোনার সুবিধার্থে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ ৩০ মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন।

এর আগে গত ৩০ মে কওমি শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দর্শকপ্রিয় সিনেমা ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর প্রদর্শনীও বন্ধ হয়ে যায়।


Share: