Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / অপরাধ / ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ: হাইকোর্ট - Chief TV

ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ: হাইকোর্ট - Chief TV

2026-09-09  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
ন্যূনতম প্রমাণ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ: হাইকোর্ট - Chief TV

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, চার আসামির বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ না থাকলেও তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ দণ্ডের কারণে তারা প্রায় সাত বছর কনডেম সেলে ছিলেন, যা তাদের পরিবারে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ উঠে আসে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, একটি সভ্য সমাজে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সাজা প্রত্যাশিত নয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারকের মধ্যে সংবেদনশীলতার অভাব দেখা গেছে। দণ্ডবিধি ও সাজা প্রদানসংক্রান্ত বিধিমালার মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত না করা পর্যন্ত ওই বিচারককে দায়রা আদালতের বিচারিক কাজ থেকে দূরে রাখা শ্রেয় বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

রায়ে বলা হয়, নুসরাতকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার জন্য মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশ বাস্তবায়নে শাহাদাত হোসেন শামীম ও নুরউদ্দিন মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। নুসরাত মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার জন্য শামীম, নুরউদ্দিন, জাবেদ ও জুবায়েরকে প্ররোচিত করেছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দিকে ‘ত্রুটিহীন’ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেন, গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠিতে ওই জবানবন্দি উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এতে চার ব্যক্তির সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ছাড়া দণ্ডিত আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত জানান, রিমান্ডে আসামিদের নির্যাতন করা হয়েছিল—মামলার নথিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার কারণে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অবিশ্বাস্য হয়ে যেতে পারে না।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মূল হোতা অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীমের বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখার মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকায় তাদের খালাস দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আরও চার আসামির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা হলেন নুরউদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ এবং উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন।


Share: